“চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে
Choose an available translation of this Hadeeth
Hadeeth text
হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদা আমরা ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহ -এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফিতনাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছ? উপস্থিত একদল বললেন, আমরা শুনেছি। ওমার বললেন, তোমরা হয়তো একজনের পরিবার ও প্রতিবেশীর ফিতনার কথা মনে করেছ? তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, সালাত, সিয়াম ও সদাকার মাধ্যমে এগুলোর কাফফারাহ হয়ে যায়। কিন্তু তোমাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই ফিতনার কথা বর্ণনা করতে শুনেছ, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ধেয়ে আসবে?
হুযাইফাহ বললেন, প্রশ্ন শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম, আমি শুনেছি। ওমার বললেন, তুমি শুনেছ, মাশাআল্লাহ। হুযাইফাহ বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে। যে অন্তরে তা গেঁথে যায় তাতে একটি করে কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে তাতে একটি উজ্জ্বল দাগ পড়বে। এমনি করে দুটি অন্তর দু’ধরনের হয়ে যায়। একটি সাদা পাথরের ন্যায়; আসমান ও জমিন যতদিন থাকবে ততদিন কোন ফিতনা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর অপরটি হয়ে যায় উল্টানো সাদা মিশ্রিত কালো কলসির ন্যায়, তার প্রবৃত্তির মধ্যে যা গেছে তা ছাড়া ভাল-মন্দ বলতে সে কিছুই চিনে না”।
হুযাইফাহ বললেন, ওমরকে আমি আরো বললাম, আপনি এবং সে ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে, অচিরেই সেটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। ওমার বললেন, সর্বনাশ! তা ভেঙ্গে ফেলা হবে? যদি ভেঙ্গে ফেলা না হত তাহলে হয়ত পুনরায় বন্ধ করা যেত। হুযাইফাহ উত্তর করলেন, না ভেঙ্গে ফেলাই হবে। হুযাইফাহ্ব বললেন, আমি ’ওমার-কে এ কথাও শুনিয়েছি, সে দরজাটি হল একজন মানুষ; সে নিহত হবে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে, এটি কোন গল্প নয়, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস।
বর্ণনাকারী আবূ খালিদ বলেন: আমি সাদকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ মালিক أَسْوَدُ مُرْبَادًّا এর অর্থ কি? উত্তরে তিনি বললেন, কালো-সাদায় মিশ্রিত রং। তিনি বলেন, আমি বললাম, الْكُوزُ مُجَخِّيًا এর অর্থ কি? তিনি বললেন, উল্টানো কলসি’।
Explanation
এই ফিতনাগুলো ফেরানো হবে এবং একের পর এক পরীক্ষা পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তাই এটি যে হৃদয়ে প্রবেশ করবে এবং সে তাকে ভালোবাসবে ও তার সাথে মিশে যাবে, যেমন শরবত মিশে যায় এবং প্রবেশ করে; তার হৃদয়ে একটি কালো বিন্দু স্থাপন করা হবে।
আর যে হৃদয় তা প্রত্যাখ্যান করবে, তার উপর একটি সাদা বিন্দু স্থাপন করা হবে, ফলে হৃদয় দুই ধরণের হবে: একটি বিশুদ্ধ হৃদয়, কারণ এটি ঈমানের প্রতি দৃঢ়, ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত এবং যেহেতু ফিতনাগুলো তার সাথে লেগে যায়নি বা তাকে প্রভাবিত করেনি, যেমন একটি মসৃণ, বিশুদ্ধ পাথর যার সাথে কিছুই লেগে নেই, তাই কোনও পরীক্ষা তাকে ক্ষতি করতে পারে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে দেখা করে। অন্য হৃদয়টি হল এমন একটি হৃদয় যার রঙ ফিতনার কারণে কালো হয়ে গেছে, যেন একটি কাত বা উল্টে যাওয়া পাত্র যেখানে কোনও পানি স্থির হয় না। একইভাবে এই হৃদয়ের সাথে কোনও কল্যাণ বা প্রজ্ঞা জড়িত হয় না। এটি কোনটি সঠিক জানে না এবং কোনটি ভুল তা অস্বীকার করে না, কেবল তার আত্মা যা ভালোবাসে এবং কামনা করে তা ছাড়া। হুযাইফা ওমারকে বলেন: তোমার জীবদ্দশায় এই ফিতনার কোনটিই বের হবে না এবং তোমার ও তার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে যা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। ওমার বললেন: এটা কি ভেঙে যাবে? যদি এটি খোলা হত, তাহলে এটি আবার বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। হুযাইফা বললেন: না, এটা ভেঙে ফেলা হবে, আর সেই দরজাটা একজন লোক তাকে হত্যা করা হবে অথবা সে মারা যাবে। আমি যা উল্লেখ করেছি তা একটি নিশ্চিত ও সত্য প্রতিবেদন। এটি আহলে কিতাবদের বই থেকে নয়, অথবা আমার স্বপ্রণোদিত কোন মতামত নয়, বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস।
Benefits
যদি ব্যক্তিগত ফিতনা দীনের সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে ব্যক্তি নিজেই নিন্দনীয়; কারণ এটি হয় বিদআত নয়তো পাপ। আর যদি এটি পার্থিব বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবুও এটি ব্যক্তির নিজের জন্য পরীক্ষা এবং মুসিবত। এতে তাকে ধৈর্য ধরতে হবে।
হৃদয় তার সামনে যে ফিতনা উপস্থাপন করা হয়, সেগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং সফল ব্যক্তি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হেদায়েতের উপর অবিচল থাকার জন্য তাওফিক দান করেন।
আন-নওয়াবী বলেন: আত-তাহরীরের লেখক বলেন: হাদীসের অর্থ হল, যদি কোন মানুষ তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং পাপ করে, তাহলে তার প্রতিটি পাপের সাথে সাথে তার অন্তরে অন্ধকার প্রবেশ করবে। যদি সে এমন হয়ে যায়, তাহলে সে ফিতনায় পতিত হবে এবং তার থেকে ইসলামের আলো দূর হয়ে যাবে। হৃদয় একটি পেয়ালার মতো; যদি এটি উল্টে দেওয়া হয়, তাহলে এর মধ্যে যা আছে তা বেরিয়ে আসে এবং এরপর কিছুই এতে প্রবেশ করবে না।
হুযাইফাকে ওমরের এই কথা: "তোমার পিতা না থাকুক" এর অর্থ হল: এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কথা বলো, তোমার হাতা গুটিয়ে নাও এবং নিজেকে এমন একজনের মতো প্রস্তুত করো যার কোন সাহায্যকারী নেই।
ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত এবং তিনি মানুষ ও ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা ছিলেন।
Attribution
Categories
Share hadeeth
Sharing options · 0 Total shares

