আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অন্যায় পন্থায় কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে
Choose an available translation of this Hadeeth
Hadeeth text
আবূ হুমায়দ সা’ঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুতাবিয়্যা নামে এক লোককে বানী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন সে ফিরে আসল তখন তিনি তার নিকট হতে হিসাব-নিকাশ নিলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) হাদিয়া। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে হাদিয়া পৌঁছে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্ আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল আর এ হলো আমাকে দেয়া হাদিয়া।
তাহলে সে কেন তার মা-বাবার ঘরেই বসে থাকল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে তার হাদিয়া পৌঁছে যেত? আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অন্যায় পন্থায় কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চিনব যে, সে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে উট বহন করে; আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বক্রী বহন করে, আর সেটা পায়খানা করতে থাকবে। তারপর তিনি আপন হাত দু’টি এতদূর উত্তোলন করলেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমার দু’চোখ সে অবস্থা দেখেছে এবং আমার কান শুনেছে।
Explanation
Benefits
যারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করেন তাদের প্রতি হুমকি।
এমন কোন জালিম নেই, যে তার জুলম নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে না।
যেকোনো রাষ্ট্রীয় চাকরিতে কর্মচারীর কর্তব্য হলো তার প্রতি যা অর্পিত হয়েছে তা পালন করা। তার কাজের সাথে সম্পর্কিত উপহার গ্রহণ করা তার জন্য নিষিদ্ধ এবং যদি সে তা গ্রহণ করে, তবে তার উচিত তা সরকারি কোষাগারে জমা করা। তার নিজের জন্য তা গ্রহণ করতে পারবে না, কারণ এগুলো মন্দ কাজ এবং আমানত ভঙ্গের মাধ্যম।
ইবনু বাত্তাল বলেন: হাদীসটি ইঙ্গিত করে যে, একজন শ্রমিককে উপহার দেওয়া হলো তার অনুগ্রহের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো, অথবা তার প্রিয়ভাজন হওয়া, অথবা সে তার প্রাপ্যে হ্রাস করবে আশা করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করলেন যে, তাকে যা হাদিয়া পেশ করা হয় তার মালিকানায় সে অন্যান্য মুসলিমদের মতো একজন। এতে তাদের উপর তাঁর কোন অগ্রাধিকার নেই এবং এটি একচেটিয়াভাবে তার দখল করা জায়েয নয়।
আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীসে বলা হয়েছে যে শ্রমিকদের উপহার হারাম এবং আত্মসাৎ (খিয়ানত)। কারণ, সে তার কর্তৃত্ব এবং আমানতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই কারণেই হাদীসে তার শাস্তি এবং কিয়ামতের দিন তাকে যা দেওয়া হয়েছে তা বহন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন খিয়ানতকারীর ব্যাপারে একই কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই হাদীসে তাঁকে উপহার দেওয়া হারাম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন যে এই হাদিয়া হল কর্তৃত্বের কারণে, এটি কর্মচারী নন এমন কাউকে উপহার দেওয়ার মত নয়, কারণ তা মুস্তাহাব।
ইবনু আল-মুনির বলেন: তার বক্তব্য "هلا جلس في بيت أبيه وأمه" "কেন সে তার বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকেনি?" থেকে বোঝা যায়: যে ব্যক্তি পূর্বে তাকে উপহার দিত, তার কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা জায়েয। ইবনু হাজার বলেন: এটা অস্পষ্ট নয় যে, এর জায়গা হলো যদি এটি পূর্বের রীতির বাইরে না যায়।
নববী উপদেশের পদ্ধতি হল ব্যাপককরণ, মানহানি নয়।
ইবনু হাজার বলেন: এতে আমানতদারকে জবাবদিহি করা জায়েয প্রমাণ হয়।
ইবনু হাজার বলেন: ভুল করলে তাকে তিরস্কার করা জায়েয।
দুআয় হাত তুলা মুস্তাহাব।
Attribution
Categories
Share hadeeth
Sharing options · 0 Total shares

