“আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব
Choose an available translation of this Hadeeth
Hadeeth text
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যাঁর কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিস্কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে”।
Explanation
সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কেননা এটা আমার জন্য যেখানে রিয়া (লোক দেখানো) হয় না এবং আমিই এর প্রতিদান দিব এবং আমি একাই এর সওয়াবের পরিমাণ এবং এর নেক আমলের বহুগুণ বৃদ্ধির বিষয়টি জানি।
তারপর তিনি বললেন: (সিয়াম একটি ঢাল) এবং একটি সুরক্ষা, একটি আবরণ আর জাহান্নাম থেকে একটি শক্তিশালী দুর্গ। কেননা এটি প্রবৃত্তি এবং পাপ করা থেকে বিরত রাখে; যেখানে জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা পরিপূর্ণ।
(সুতরাং তোমাদের কারো সিয়াম রাখার দিন হলে সে যেন অশ্লীল কাজ না করে) সহবাস ও তার প্রারম্ভিক আচরণ দিয়ে এবং অশ্লীল কথা বলেও নয়।
(এবং গলা ফাটাবে না) ঝগড়া ও চিৎকার দিয়ে।
রমযান মাসে (যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে মারামারি করে) সে যেন বলে: আমি একজন রোজাদার। এর কারণ হলো: সম্ভবত এর ফলে গালি দেওয়া বা মারামারি করতে আসা ব্যক্তি বিরত হবে।তবে, যদি সে প্রকৃত মারামারির জন্য জেদ করে, তাহলে রোজাদার তাকে হালকাভাবে প্রতিহত করবে—প্রথমে হালকাভাবে, এরপর আরও হালকাভাবে,যেমনটা আক্রমণকারীর ক্ষেত্রে করা হয়।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সত্ত্বার হাতে তাঁর প্রাণ তাঁর নামে শপথ করেন যে, সিয়াম রাখার কারণে রোজাদারের মুখের গন্ধের যে পরিবর্তন হয় তা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তোমাদের নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। জুমার সালাত ও জিকিরের মজলিসে যে কস্তুরীর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কারণ।
রোজাদারের দুটি আনন্দ রয়েছে: যখন সে তার রোজা ভাঙ্গে তখন সে তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিঃশেষ হওয়ায় আনন্দিত হয়, যেমন তাকে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সে তার রোজা শেষ হওয়া, তার ইবাদত সমাপ্তিত হওয়া, তার রবের কাছ থেকে সহজিকরণ এবং তার ভবিষ্যতের সিয়ামের প্রতি সাহায্য করায় আনন্দিত হয়।
(এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করবে তখন সে তার সিয়ামের) সওয়াব ও প্রতিদানে আনন্দিত হবে।
Benefits
অশ্লীল ও ফালতু কথাবার্তা পরিহার করা এবং মানুষের কষ্টে ধৈর্য্য ধারণ করা এবং তাদের অসদাচারণের জবাব ধৈর্য্য ও দয়ার সাথে দেওয়া সিয়ামের অন্যতম শিষ্টাচার।
যদি রোযাদার বা ইবাদতকারী তার ইবাদত শেষ হওয়ার কারণে খুশি হয়, তবে এটি তার পরকালের সওয়াব থেকে হ্রাস পাবে না।
আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাতের মধ্যে সম্পূর্ণ আনন্দ, যখন ধৈর্যশীল এবং রোযাদারদের হিসাব ছাড়াই তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে।
প্রয়োজনের সময় এবং কোনো সুবিধার স্বার্থে মানুষকে ইবাদতের কথা জানানো লৌকিকতা নয়, কারণ তিনি বলেছেন: (আমি রোযাদার)।
পরিপূর্ণ সিয়ামের অধিকারী হলেন তিনি, যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুনাহ থেকে বিরত থাকল, যার জিহ্বা মিথ্যা, অশ্লীলতা ও অসৎ কথা থেকে নিরব থাকল এবং যার পাকস্থলী পানাহার থেকে নীরব থাকল।
রোযা থাকা অবস্থায় উঁচু আওয়াজ, ঝগড়া, চেঁচামেচি থেকে কঠিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অন্যথায় রোযাহীন ব্যক্তির জন্যও তা নিষেধ।
এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেন তার অন্তর্ভুক্ত এবং এটিকে কুদসী বা ইলাহী হাদীস বলা হয়। এর শব্দ ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে তাতে আল-কুরআনুল কারীমের এমন বৈশিষ্ট্য নেই, যে কারণে তা অন্য যেকোন কিছু থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, যেমন এর তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত আঞ্জাম দেওয়া হয় এবং এর জন্য পবিত্র হতে হয় এবং এর দ্বারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয় এবং তা মোজেযা প্রভৃতি।
Attribution
Categories
Share hadeeth
Sharing options · 0 Total shares

