? কি শ্য দ্দেজী বনে র উ

📜 ما هو الهدف من الحياة؟ (قصة ملحد) ? কি শ্য দ্দেজী বনে র উ

(বাংলা ভাষা)
জীবনের উদ্দেশ্য কি?
একজন নাস্তিকের ঘটনা

আমার ঘটনা শুরু হয় যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন। এই বছর আমি বেশ কয়েকটি বিপদে পতিত হই।

এই বছর আমার পিতা মাতার ডিভোর্স হয়ে যায়, আমি একটি অ্যাক্সিডেন্ট করি এবং আমার একজন খুব কাছের বন্ধু মারা যায়।

তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করি আমি কেন এখানে? আর জীবনের উদ্দেশ্যই বা কি?

জীবনের উদ্দেশ্যের ব্যাপারেই আমি সন্দেহে পতিত হয়ে যাই, আর যেহেতু আমি একজন খ্রিস্টান ছিলাম আমি এখান থেকেই আমার অনুসন্ধান শুরু করলাম।

প্রথমে আমি একটি গির্জায় গেলাম সেখানে দেখলাম সকলেই এমন এক ধরনের গান গাচ্ছে যা আমার কাছে অপরিচিত।
আমি তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম যেগুলো আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল।
তারা কেউই আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য ইনজিল খুলে দেখল না। বরং প্রত্যেকেই তার নিজস্ব মত অনুযায়ী আমার প্রশ্নের উত্তর দিল।
ফলে উত্তর গুলির মধ্যে মতানৈক্য দেখা গেল বরং কোন কোন মত অন্য মতের বিপরীত‌ও হলো!!
এমনকি সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে তাদের মতাদর্শও একটি দুর্বল, অসঙ্গতিপূর্ণ মতাদর্শ।

কিভাবে একজন ইলাহ কে শুলে চড়ানো হতে পারে? কিভাবে তিনি কষ্টের মুখোমুখি হতে পারেন?

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার পাশাপাশি আমি একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করতাম। আমার একজন বন্ধু ছিল ভারতীয় হিন্দু। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: হিন্দুদের হাতির মাথা বিশিষ্ট এই ইলাহ এর ব্যাপারটা কি বলতো? হাতির মাথার পরিবর্তে সিংহের মাথা বিশিষ্ট ইলাহ গ্রহন করা কি সম্ভব নয়? সেই ভারতীয় বন্ধু আমাকে কোন সুন্দর উত্তর দিতে পারেনি!

আমি অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতেই থাকলাম। এ পর্যায়ে আমি ইয়াহুদি ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। ইয়াহুদী ধর্ম সম্পর্কে দীর্ঘ গবেষণার পরে আমি দেখতে পেলাম যে ইলাহ সম্পর্কে তাদের মতাদর্শ অসঙ্গতিপূর্ণ। ঠিক যেমন অসংগতিপূর্ণ মতাদর্শ ছিল খ্রিস্টান পাদ্রীদের।
ফলে ইয়াহুদীদের নিকটেও আমি যা অনুসন্ধান করছিলাম তা পেলাম না।

অবশেষে আমি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করলাম, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আমি এই ধর্মই অনুসরণ করব। কিন্তু যখন আমি গভীরভাবে অনুসন্ধান করলাম আমি দেখলাম এটা তো কোন ধর্মই নয় , এটা জীবন যাপনের আকর্ষণীয় একটি পদ্ধতি মাত্র।

একদিন আমি যে সমস্ত ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধান করছিলাম সেগুলো সম্পর্কে আমার এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন।
আমি তাকে বললাম আমি খ্রিস্টান, হিন্দু, ইহুদি, বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছি। সে আমাকে বলল ইসলাম ধর্মের ব্যাপার কি? আমি তাকে বললাম আমি কখনোই ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান করব না , আর কেনই বা আমি ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে যাব?

কিন্তু কিছুদিন পরে একদিন আমি আমার জুতা না খুলেই মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে নামাজের গালিচা অতিক্রম করলাম। এমনকি আমি একজন মুসল্লির মাথা পদদলিত করার উপক্রম হয়েছিলাম। অতঃপর আমি দেখলাম একজন বৃদ্ধ লোক তিনি আমার দিকে হাস্যজ্জল চেহারায় এগিয়ে আসছেন এবং তিনি আমাকে বললেন: শুভ দিন, কেমন আছেন আপনি?

বৃদ্ধের নিকট থেকে এই সুন্দর অভ্যর্থনা পেয়ে আমি তাকে আবার প্রশ্নগুলো করে ফেললাম। ওই প্রশ্নগুলো আমার কাছেই ছিল যেগুলো আমি ইতিপূর্বে করেছিলাম। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যজনক ছিল তা হচ্ছে যখনই আমি তাদেরকে কোন প্রশ্ন করছিলাম তারা আমাকে তাৎক্ষণিক উত্তর দিচ্ছিল না বরং তারা কোরআন নিচ্ছিল এবং আমাকে বলছিলো : হে আমার ভাই তুমি এখান থেকে পড়ো!

আর আমি যত কঠিন প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করছিলাম না কেন এখানে তার উত্তর পাচ্ছিলাম। দুই সপ্তাহ যাওয়ার পরে আমি একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার পর একজন মুসলিমকে বললাম কেন তুমি তোমার ব্যক্তিগত মতামত দিচ্ছ না? তখন সে আমাকে উত্তর দিল: যখন আমরা আল্লাহর কালামের ব্যাপারে কথা বলছি তখন আমার নিজের মতামত দেওয়া সম্ভব নয়।
তার এই কথাটি আমার উপর খুব বড় প্রভাব ফেলল।
এরপরে আমি আমার বাড়ির জন্য কোরআনের একটা কপি নিয়ে নিলাম এবং আমি সেখান থেকে পড়া শুরু করলাম। আমি দেখলাম বিষয়টি সাধারণ কোন গল্প পড়ার মতো নয় বরং আমি এমন একটা জিনিস পড়ছি যা আমাকে কিছু কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছে এবং আমাকে পথ দেখাচ্ছে।

একদিন রাত্রে আমি বসে বসে কয়েকটি বিষয়ের দলিল সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকলাম যেমন পাহাড়গুলিকে পেরেকের মতন করে দেওয়া অথবা মাতৃগর্ভে সন্তানের লালন পালন ইত্যাদি।
এবং আমি বললাম : হে আল্লাহ আপনি আমাকে হেদায়েত দান করুন।
অতঃপর আমার জীবন পরিপূর্ণরূপে পরিবর্তন হয়ে গেল। আমি অনুভব করলাম নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আমাকে পথ দেখিয়েছেন। কেননা এই সুন্দর বিরাট বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত তৈরি হওয়া অসম্ভব।

অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি মুসলিম হয়ে যাব এবং আমি শাহাদাতাইন পাঠ করবো।
শাহাদাত আইন পাঠ করার পরে আমার মন থেকে যাবতীয় সন্দেহ ভয় দূর হয়ে গেল।

Shopping Basket